দাম্পত্য সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার কারণ ও সমাধান
মানুষের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয় বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে। এই সম্পর্কে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাত্রা যোগ হয়। দাম্পত্য সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার কারণ অনেক রয়েছে।
দাম্পত্য সম্পর্ক একটি মধুর সম্পর্ক। এর মাঝে আল্লাহ তায়ালার অশেষ নিয়ামত রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে। দু’পক্ষের উদাসীনতা এর অন্যতম কারণ। সঙ্গীকে অবমূল্যায়ন এবং পরস্পর সময় না দিতে পারলে দাম্পত্য সম্পর্ক ফিকে হতে থাকে। দাম্পত্য সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার পিছনে আরো বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। দাম্পত্য সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার কারণ হিসেবে বিশ্বাসঘাতকতা, পারস্পরিক অসম্মান এবং সঙ্গীকে সময় না দেওয়া সবচেয়ে বেশি দায়ী।
দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পিছনে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কারণও রয়েছে৷ সাধারণত, অভাবগ্রস্ত পুরুষ মেয়েদের পছন্দ নয়। তারা বিত্তশালীদের পছন্দ করে। আবার সামাজিকতা রক্ষা করতে না পারলেও বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে থাকে। তাই একটি সম্পর্কে ভারসাম্য রাখার জন্য সামাজিক রীতিনীতি মেনে চলা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
দাম্পত্য সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার প্রধান কারণসমূহ
বিশ্বাসঘাতকতা
একটা সম্পর্ক টিকে থাকে বিশ্বাসের উপর। বিশ্বাস ভেঙে গেলে সম্পর্কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়। প্রতারণা শুধু দাম্পত্য সম্পর্ক নয়, যে কোনো সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়। তাই দাম্পত্য জীবনে প্রতারণা এড়িয়ে চলুন। সঙ্গীর বিশ্বাস অর্জন করুন। এতে সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদি হবে।
সঙ্গী কে অসম্মান করা
স্বামী-স্ত্রী একজন অন্যজন কে সম্মান দিয়ে কথা বলবে। কোনোভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা মাবে না। সঙ্গীকে অপমান করা যাবে না। সঙ্গীর মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে।
পারিবারিক সহিংসতা
মানুষের জীবনে নানামুখী চাপের কারণে পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব দাম্পত্য জীবনেও পড়ে। পারিবারিক সহিংসতার কারণে অনেক সময় বিবাহ বিচ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটে যায়।
সঙ্গী কে সময় না দেওয়া
সঙ্গীকে অবশ্যই সময় দিতে হবে। প্রয়োজনে দু’জন একসঙ্গে বেড়িয়ে আসুন। সময় দেওয়াকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য জীবনে সমস্যা সৃষ্টি হয়। এই সমস্যা থেকে দাম্পত্য সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। তাই সঙ্গীকে সময় দিন।
আরও পড়তে পারেন: নতুন সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তালিকা
আর্থিক সমস্যা
স্বামী-স্ত্রী একে অপরের অর্থনৈতিক অবস্থা বুঝতে হবে। অর্থকে কেন্দ্র করে সংসারে অশান্তি হয় এবং দু’জনের মধ্যে মতানৈক্য হয়। এতে সংসার ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
সমঝোতা না করা
বর্তমান সময়ে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রবণতা বেড়েছে। তার অন্যতম কারণ হচ্ছে স্বামী-স্ত্রী মধ্যে সমঝোতা না হওয়া। সমঝোতা একটা সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পরস্পরের খুঁত বা ত্রুটি ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখে সমঝোতায় পৌঁছে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উত্তম। অনেক ক্ষেত্রে দাম্পত্য সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায় আর্থিক চাপ, পারিবারিক হস্তক্ষেপ এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতার অভাব।
দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো রাখার জন্য করণীয়
সম্মান বজায় রাখা
যেকোনো সম্পর্ক নির্ভর করে পারস্পরিক সম্মানের উপর। দাম্পত্য জীবনে মনোমালিন্য বা কথা কাটাকাটি হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। আবার অনেক সময় আরো বড় কোনো সমস্যাও হতে পারে। তবে সবসময় দুজনের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে হবে।
সঙ্গীকে সময় দেওয়া
ব্যস্ততার মধ্যেও সঙ্গীর জন্য সময় বের করতে হবে। কর্মব্যস্তার মধ্যে সঙ্গীকে নিয়ে বিভিন্ন সময় ঘুরতে যাওয়া হচ্ছে দাম্পত্য জীবন সুখী করার অন্যতম শর্ত। তই সময় ফেলে সঙ্গীকে নিয়ে ঘুরতে যান।
ক্ষমা করার মানসিকতা
সংসারে ছোটোখাটো অনেক ভুলভ্রান্তি হতে পারে। ছোটোখাটো ভুল সব সংসারে হয়ে থাকে। এগুলো এড়িয়ে যাওয়া উত্তম। তাহলে দাম্পত্য জীবনে আসবে অনাবিল সুখ এবং শান্তি।
আলোচনা করে সমাধান করা
মানুষের দাম্পত্য জীবনে সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। কোনো মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। অনেক সময় কোনো সমস্যা হলে আমরা পরস্পর কথা বলা না। এটি করা যাবে না। কোনো সমস্যা হলে দুইজন কথা বলে সমাধান করে নেওয়া উচিত।
দোষারোপ না করা
মানুষ খুব সাধারণত অন্যের দোষ ধরতে পছন্দ করে। নিজে ঠিক অন্য জন ভুল। এই মানসিকতা থেকে বের হতে হবে। তাই দোষারোপের অভ্যাস থেকে আমাদের বের হতে হবে। অন্যথায় দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগেই থাকবে।
দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া
সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে পারিবারিক এবং সামাজিক দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব যদি স্বামী স্ত্রী পরস্পর ভাগ করে নিতে পারেন, তাহলে সংসার জীবনের জন্য ভালো।
রাগ নিয়ন্ত্রণ ও আবেগ করা
রাগ যেকোনো সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। এটি সম্পর্ককে নিম্নমানের অবস্থায় নিয়ে যায়। সুস্থ এবং স্বাভাবিক সম্পর্কের জন্য রাগ নিয়ন্ত্রণ করা অবশ্যই জরুরি।
শেষ কথা
দাম্পত্য জীবনে সুখ এবং দুঃখ থাকবেই। একজন মানুষ কখনোই এগুলো এড়িয়ে যেতে পারবে না। এই দুটিকে ভারসাম্য করেই জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সমাজ এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে জীবন কাটাতে হবে।