রান্নাঘর গুছিয়ে রাখার সহজ উপায়: ছোট কিচেন সাজানোর টিপস

সব গৃহিণী চেষ্টা করে রান্নাঘর গুছিয়ে রাখতে। এটি মোটেও সহজ কাজ নই, তবে একটু টেকনিক খাটিয়ে চেষ্টা করলে অসম্ভব ও নয়।

রান্নাঘর গুছিয়ে রাখার সহজ উপায়: ছোট কিচেন সাজানোর টিপস

গৃহিণীর জন্য রান্নাঘর গুছিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক। অপরিষ্কার বা অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর একটি বিরক্তিকর পরিবেশ তৈরি করে। যা রান্নার কাজে বিঘ্ন ঘটায় এবং রান্নাঘরে একটি বিরক্তিকর পরিবেশ তৈরি করে। আর অথচ গোছানো রান্নাঘর মন ফ্রেশ রাখে এবং সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচায়। একটি নির্দিষ্ট থিম নির্ধারণ করে ও রান্নাঘর গুছানোর উপায় জানলে অল্প জায়গাতেও আপনার কিচেন পরিষ্কার ও পরিপাটি রাখা সম্ভব।

রান্নাঘর গুছানোর উপায়

জিনিস নির্দিষ্ট স্থানে রাখা

রান্নাঘরে প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসপত্র এবং সরঞ্জামের দরকার হয়। এগুলো রান্নার কাজে বিভিন্নভাবে আমাদের সাহায্য করে থাকে। যেমন : – মশলা, তেল, ডালসহ আরো বিভিন্ন ধরনের জিনিস। এসব জিনিসপত্র নির্দিষ্ট স্থানে আলাদা আলাদা করে সাজিয়ে রাখলে রান্নাঘরকে অনেক গোছানো দেখাবে। পরিপাটি রান্নাঘর গৃহিণীর দৈনন্দিন কাজকে অনেক সাহায্য করে।

রান্নাঘর গুছানোর উপায়

অতিরিক্ত স্টোরেজ তৈরি করা

রান্নাঘর বিভিন্ন সাইজের হয়ে থাকে। ছোট রান্নাঘরে স্পেস কম থাকে। সেখানে ওয়াল মাউন্টেড আলমারি, ওয়াল শেলফ, ঝুলন্ত হ্যাঙ্গিং দিয়ে স্টোরেজ তৈরি করতে পারেন। স্টোরেজ কম হলে রান্নাঘরে সব কিছু এলোমেলো থাকে। যার ফলে রান্নাঘরকে অগুছানো মনে হয়। তাই জিনিসপত্র বেশি থাকলে অতিরিক্ত স্টোরেজ তৈরি করে রান্নাঘরকে গুছিয়ে রাখতে পারেন।

রান্নাঘর গুছানোর উপায়

বয়াম ও বক্সের ব্যবহার

চকলেট বক্স বা বিস্কুটের বয়ামসহ এই ধরনের বিভিন্ন পাত্র পাওয়া যায়। যাতে রান্নাঘরের সরঞ্জামগুলো সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা যায়। তবে বয়াম বা বক্সগুলো যদি সাদা, কাচের অথবা স্বচ্ছ রঙের হয়ে থাকে, তাহলে কোন পাত্রে কী জিনিস রাখা হয়েছে, তা খুঁজে পেতে সহজ হবে। এতে করে তাড়াহুড়োর সময় অল্প সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।

রান্নাঘর গুছানোর উপায়

ক্যাবিনেটের দরজার সঠিক ব্যবহার

ক্যাবিনেট স্টোরেজ হিসেবে আমরা ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু একটু বুদ্ধি খাটিয়ে স্টোরেজকে আমরা আরো বৃদ্ধি করতে পারি ক্যাবিনেটের দরজার বাহিরের অংশে কয়েকটি হুক অথবা পকেট লাগিয়ে বিভিন্ন জিনিস ঝুলিয়ে রাখতে পারি। চামচ, খুন্তিসহ অতি জরুরি জিনিসগুলো এখানে রাখতে পারি।

আরও পড়তে পারেন: রান্নাঘরের সরঞ্জামের তালিকা

ড্রয়ারের সঠিক ব্যবহার

ক্যাবিনেটের ড্রয়ারগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর সঠিক ব্যবহার করতে হবে। চামচ, খুন্তি, কাচিসহ ছোটোখাটো জিনিসগুলো ড্রয়ারে রাখেন। ড্রয়ারে অতিরিক্ত জিনিস রাখা উচিত নয়। এগুলো জায়গা নষ্ট করে এবং রান্নাঘরকে অগোছালো মনে হয়। তাই ড্রয়ারের সঠিক ব্যবহার করে রান্নাঘরকে গুছিয়ে রাখুন।

সঠিক স্থানে সরঞ্জাম রাখা

রান্নাঘরে এমন অনেক জিনিস আছে যা রান্নার কাজে প্রতিনিয়ত ব্যবহার হয়ে থাকে। আবার কিছু জিনিস রয়েছে যা খুব কম ব্যবহার হয়ে থাকে। গুরুত্বের উপর নির্ভর করে রান্নাঘরের সরঞ্জাম সঠিক স্থানে রাখা। এভাবে করে রান্নাঘর সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে পারেন। প্রয়োজনের সময় জিনিস পত্র আর খোঁজা-খুঁজি করা লাগবে না। এতে করে গৃহিণীর রান্নার পেরেশানি দূর হবে।

কোণের জায়গার সঠিক ব্যবহার

রান্নাঘরের কর্নারগুলো অনেক সময় খালি পড়ে থাকে, কিন্তু অনন্য স্থানে জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। রান্নাঘরের কোণের সঠিক ব্যবহার করতে হবে। এর জন্য কর্নার অর্গানাইজার অথবা এল-শেপ র‍্যাক, ভাসমান তাক, ঘুরন্ত তাক, কোণাকৃতির ক্যাবিনেট ব্যবহার করে রান্নাঘরে স্মার্ট স্টোরেজ সলিউশন করতে পারেন। তবে এগুলো বসানোর আগে খেয়াল রাখতে কর্নারে কোনো ময়লা-আবর্জনা রয়েছে কিনা।

নিয়মিত পরিষ্কার করা

রান্নার বিভিন্ন কাজে রান্নাঘরে ময়লা এবং আবর্জনা একটু বেশি হয়ে থাকে। তাই রান্নাঘর সবসময় পরিষ্কার করে রাখতে হবে। অপরিষ্কার রান্নাঘর থেকে বিভিন্ন রোগবালাই ছড়াতে পারে। ভেজা এবং শুকনো কাপড়, ভ্যাকুয়াম দিয়ে রান্নাঘরের মেঝে পরিষ্কার করলে হালকা গাঢ় উভয় প্রকার ময়লা দূর হবে। প্রতিদিন কাজ শেষে চুলা ও চারপাশে মুছে ফেলুন। তাহলে রান্নাঘর পরিষ্কার থাকবে সব-সময়।

শেষ কথা

ঘর গোছানো গৃহিণীদের প্রতিদিনের কাজ। এটি প্রায় সব গৃহিণীর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আস্তে আস্তে পরিবর্তনের মাধ্যমে রান্নাঘর গুছিয়ে রাখা যায়। এটি তেমন একটি কঠিন কাজ নয়। প্রতিদিন কিছু সহজ রান্নাঘর গুছানোর উপায় মেনে চললে আপনার রান্নাঘর সবসময় সুন্দর ও সুশৃঙ্খল থাকবে।

Similar Posts

Leave a Reply