প্রথম বাচ্চার কতদিন পর দ্বিতীয় বাচ্চা নেওয়া নিরাপদ ও উপযুক্ত?
প্রথম বাচ্চার কতদিন পর দ্বিতীয় বাচ্চা নেওয়া নিরাপদ এই প্রশ্নটি অনেক বাবা-মায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের স্বাস্থ্য, প্রথম সন্তানের যত্ন ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার সঠিক সময় ও নিরাপদ ব্যবধান সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
প্রথম সন্তানকে অবশ্যই ২ বছর দুধ পান করাতে হয়। তাই এই সময়ে দ্বিতীয় সন্তান নিলে প্রথম সন্তান এর দুধ পান করার ক্ষেত্রে একটু সমস্যা তো হবেই। এছাড়া বর্তমানে একক পরিবারে দুইটি সন্তান কাছাকাছি বয়সের হলে কষ্টটা বেশি হবে। তাই সব দিক বিবেচনায়, বিশেষজ্ঞরা ২ থেকে ৫ বছর নিম্নতম ব্যবধান-এর কথা বলে। প্রথম বাচ্চার কতদিন পর দ্বিতীয় বাচ্চা নেওয়া নিরাপদ? এই সিদ্ধান্ত শুধু পারিবারিক পরিকল্পনার বিষয় নয়, বরং এটি মায়ের শারীরিক সুস্থতা, প্রথম সন্তানের সঠিক যত্ন এবং ভবিষ্যৎ সন্তানের নিরাপদ জন্মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
প্রথম বাচ্চার কতদিন পর দ্বিতীয় বাচ্চা নেওয়া নিরাপদ
World Health Organisation এর পরামর্শ
দুই সন্তান জন্ম দেওয়ার পার্থক্য কমপক্ষে ২৪ মাস হওয়া উচিত। এই সময়ে মায়ের শরীর প্রস্তুত হওয়ার যথেষ্ট সময় পাই। কমপক্ষে ১৮ মাসের কথা বলেন WHO। কানাডায় পরিচালিত নতুন এক গবেষণায় কমপক্ষে ১ বছরের কথা বলা হয়। দেশভেদে এই সময়টা আরো বাড়তে পারে। যেহেতু একেক দেশের মানুষের দৈহিক গঠন ও শারীরিক সক্ষমতা এবং খাদ্যাভ্যাস এক রকম না৷
সতর্ক থাকুন এই বিষয়ে
দ্বিতীয় সন্তানের গর্ভধারণ ৬ মাস পার্থক্য হলে নানা রকম জটিলতা দেখা দেবে যেমন বাচ্চার ওজন কম হবে, জন্মগত ত্রুটি দেখা দেবে, বাচ্চার অটিজম হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে, নবজাতক ও মায়ের জীবনের ঝুঁকি তৈরি হবে। ৭ থেকে ১৭ মাসের মধ্যে ও দ্বিতীয় সন্তান না নেওয়ায় ভালো। এই সময়ে সন্তান নিলেও কিছুটা ঝুঁকি থেকেই যাবে।
আরও পড়তে পারেন: বাচ্চাদের জন্মদিনের গিফট আইডিয়া
মায়ের বয়স ও শারীরিক পরিস্থিতি
এক্ষেত্রে মায়ের বয়স কত সেটা ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এবং মা কি দ্বিতীয় সন্তানের জন্য শারীরিকভাবে প্রস্তুত কিনা? সময় বেশি পেলে শারীরিকভাবে প্রস্তুত হওয়া যায়। বয়স যদি ৩০ এর বেশি হয়, তাহলে সন্তান নেওয়ার বিষয়ে একটু তাগিদ থাকাই ভালো। কারণ নারীদের ৩৫ বছরের পর গর্ভধারণের ক্ষমতা হ্রাস পাই। এছাড়া প্রথম সন্তানটি কি স্বাভাবিক প্রস্রব ছিলো কিনা; নাকি সিজার অপারেশনে হলো, তা বিবেচনায় রাখতে হবে। সিজার অপারেশনে হলে এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ২য় সন্তানের পরিকল্পনা করাই উত্তম।
পরপর সন্তান নেওয়ার সুবিধা
২-৫ বছরের পার্থক্য হলে যত্ন নিতে সুবিধা হয়৷ একসাথে ২ জনের যত্ন নিয়ে নেওয়া যায়। ৫ বছরের বেশি পার্থক্য হলে আরেকটু বাড়তি সুবিধা হলো বড় সন্তানটি ছোট সন্তানকে যত্ন করতে পারে। এতে মা-বাবার উপর চাপ কমে। ৪/৫ বছরের বেশি পার্থক্য হলে সুবিধা – আলাদা আলাদা মনোযোগ দেওয়া যায়।
ভালোবাসার ঘাটতি অনুভব করানো যাবে না
কম সময়ের পার্থক্যে সন্তান নিলে বড় সন্তানকে আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত করাতে হবে। তাকে তার বয়স অনুযায়ী বুঝাতে হবে যে, তোমার যে ভাই বা বোন আসতেছে এই পৃথিবীতে তাতে তোমার জন্য ভালোবাসার কমতি হবে না। সন্তানকে এমন কথা বলা যাবে না, যে সে মানসিক দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। যেমন তাকে এমন কথা বলা যাবে না- তোমাকে রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছি বা তোমাকে কারো থেকে আনা হলো। এই কথাগুলো শিশুকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
আয়রনের ঘাটতির বিষয়ে যাচাই করা
কম সময়ের ব্যবধানে পর পর দুটি সন্তান নিলে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। অনেকের আগে থেকেই রক্তশূন্যতার সমস্যা থাকতে পারে। ফলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা যায়। আয়রনের ঘাটতির জন্য নানা রকম গর্ভকালীন জটিলতা দেখা দেয়। এছাড়া আয়রনের অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। এর ফলে গর্ভের সন্তানের কাছে অক্সিজেন সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। অয়রন ঘাটতির জন্য আরো যেসব সমস্যা হতে পারে – ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করা, মাথা ঘোরা ও চোখে ঝাপসা দেখা, শ্বাস কষ্ট হওয়া। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায়- ৬-১৮ মাসের ব্যবধানে সন্তান না নেওয়া, আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন
প্রত্যেক নারীর শরীর একরকম না। এক্ষেত্রে যেসব নারীর শারীরিক অসুস্থতা আছে তারা তাদের ২য় সন্তান নিয়ে পরিকল্পনা করার আগে ডাক্তারের প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেওয়া ভালো। এক্ষেত্রে তারা প্রতিটি ধাপে ডাক্তারের অবজারভেশনে থাকলে তাদের ঝুঁকি অনেকটুকু কমবে।
শেষ কথা
প্রথম বাচ্চার কতদিন পর দ্বিতীয় বাচ্চা নেওয়া নিরাপদ এর নির্দিষ্ট একটাই উত্তর সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। তবে চিকিৎসা গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতে সাধারণত প্রথম সন্তানের জন্মের পর ২ থেকে ৫ বছর ব্যবধান রাখা মায়ের স্বাস্থ্য ও সন্তানের সুস্থতার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। মায়ের বয়স, শারীরিক সক্ষমতা, প্রথম সন্তানের জন্ম পদ্ধতি এবং পুষ্টিগত অবস্থার ওপর এই সময় নির্ভর করে। তাই ঝুঁকি এড়াতে ও নিরাপদ গর্ভধারণ নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় সন্তানের পরিকল্পনার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।