ব্রেকআপের বেদনা ভুলবেন কিভাবে: মানসিকভাবে শক্ত থাকার ১৫টি উপায়
ব্রেকআপের বেদনা জীবনের এক কঠিন বাস্তবতা, যা অনেক সময় মানসিক চাপ ও হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে সঠিক মানসিক প্রস্তুতি, ইতিবাচক অভ্যাস এবং বাস্তবসম্মত কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে এই বেদনা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে বসবাস করতে গেলে তাকে মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়। এর মধ্যে অন্যতম সম্পর্ক গড়ে উঠে পুরুষ ও নারীর মধ্যে। মানব-মানবীর অতি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কটির থাকে নানা উদ্দেশ্য। তাই উদ্দেশ্য বা চাহিদার মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে সম্পর্কটি ভেঙে পড়ে। সম্পর্ক ভাঙার ফলে এক পক্ষ ডুবে যায় ভীষণ হতাশায়। এই হতাশা থেকে আত্মহত্যা বা মানসিক অসুস্থতাও নেহাত কম দেখা যায় না। ব্রেকআপের বেদনা থেকে উত্তরণের কিছু উপায় হল-
ব্রেকআপের বেদনা কাটিয়ে ওঠার কার্যকর উপায়
১. Relationship একটি স্বাধীন প্রক্রিয়া
একটি সম্পর্ক থেকে যে কেউ যে কোনো সময় বের হয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। এটি জেনে মানসিকভাবে শক্ত হন। মনে মনে ভাবুন যে চলে গেছে সে কখনো আপনার ছিল না। আপনার জন্য সৃষ্টিকর্তা ভালো কিছু রেখেছেন।
২. নিজেকে ব্যস্ত রাখুন
প্রবাদ আছে, অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। আপনি যতই একা থাকবেন, আপনার মাথায় ততই এসব বেদনা ঘুরতে থাকবে। তাই নিজেকে সব সময় কাজের মধ্যে ডুবিয়ে রাখতে হবে।

৩. বন্ধুদের সাথে সময় কাটান
ব্রেকের পর আপনি একা একা থাকলে অতীত স্মৃতি আপনাকে তাড়া করতে পারে। তাই এই সময়ে বন্ধুদেরকে বেশি সময় দিতে হবে। বন্ধুদের সমস্যাগুলো খুলে বলুন, তারা ভালো পরামর্শ দিতে পারে।

৪. সিনেমা এবং সিরিয়াল দেখুন
পছন্দের সিনেমা এবং সিরিয়াল আপনার ব্রেকআপের ক্ষত কিছুটা হলেও কমাবে। আপনাকে অন্য কিছু নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করে দেবে। তবে দুঃখের সিনেমা বা সিরিয়াল এড়িয়ে যেতে হবে।

৫. সময় স্মৃতি ভুলিয়ে দেয়
সময় এই অসুখের সবচেয়ে বড় নিরাময়কারী। সময়ের সাথে সাথে আমরা আমাদের স্মৃতিকে হারিয়ে ফেলি। আমাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। যার ফলে সময়ের সাথে বেদনা কমে যায়। তাই সবার উচিত ওই সময়ে একটু নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখা।
আরও পড়তে পারেন: সংসারে শান্তি বজায় রাখার উপায় | সুখী সংসারের কার্যকর টিপস
৬. বই পড়ুন
বই হলো শ্রেষ্ঠ বন্ধু। বই পড়ার মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখা যায়। নিজের মনোযোগ বইতে দিলে জ্ঞান বাড়ার পাশাপাশি যে কোনো দুঃখ-কষ্ট ভোলা যায়। বইয়ের মধ্যে ডুবে গেলে অনাবিল শান্তি যেমন পাওয়া যায়, তেমনি ব্রেকআপের কষ্টও ভোলা যায়।

৭. ভ্রমণ করুন
নতুন জায়গা ভ্রমণ আপনার মনোযোগ অন্য দিকে সরাতে সহায়তা করবে। আপনার মনকে বড় করবে। কারো পাহাড় ভালো লাগতে পারে, কারো বা নদী। যার যেটি পছন্দ সে সেখানে ঘুরতে যান। তবে দল বেঁধে ঘুরতে গেলেই ভালো।

৮. মেডিটেশন করুন
মেডিটেশন আপনার সকল কষ্টগুলোকে ভেতর থেকে বের করে দেবে। তাই মেডিটেশনের নিয়মগুলো জেনে তা চর্চা করুন।
৯. প্রিয় কাজ করুন
আপনার যে কাজগুলো করতে পছন্দ, সে কাজগুলো করুন। যেমন অনেকের বাগান করতে ভালো লাগে, আবার অনেকে বর্শি দিয়ে মাছ ধরতে পছন্দ করে। এসব কাজের মাধ্যমে নিজেকে ডুবে রাখুন।
১০. নিজ ধর্ম পালন করুন
সব কিছু সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত, ভাগ্য কপালে লেখা থাকে এই বিষয়গুলো ভাবতে পারেন। এতে অন্যকে ভুলে যাওয়া সহজ হবে। সৃষ্টিকর্তার প্রতি অগাধ বিশ্বাস রাখতে হবে। এছাড়া নামাজকে অন্যতম মেডিটেশন হিসেবে ধরা হয়।
১১. মনের সঙ্গে আলাপচারিতা
নিজের সাথে নিজে কথা বলুন। আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মবিশ্লেষণ করুন। নিজের সবল ও দুর্বল দিক শনাক্ত করুন। নিজেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন। নিজেকে ভালোবাসুন। এতে আবার বিপরীত ঘটতে পারে, কারণ মনের সঙ্গে কথা বলার সময় এক্সের কথা মনে পড়ে যেতে পারে।
১২. নেশা থেকে দূরে থাকুন
ভুলেও নেশা করে প্রিয় মানুষকে ভোলার চেষ্টা করবেন না। এতে আপনার জীবনটাই শেষ হয়ে যেতে পারে। মনে রাখবেন, কারো জন্য কারো জীবন থেমে থাকে না। নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে তার চেয়েও ভালো কাউকে পাওয়ার জন্য।
১৩. যোগাযোগ রাখা যাবে না
সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সাবেকের সাথে আর যোগাযোগ রাখা যাবে না। যোগাযোগ রাখলে তার স্মৃতি ভোলা যাবে না। তার ছবি মোবাইলে না রাখাই ভালো। মোবাইলের ওয়ালপেপারে রাখাও চলবে না।
১৪. বেশি বেশি ঘুমান
ঘুম মানুষের সকল ক্লান্তি দূর করে। মস্তিষ্ককে রাখে সতেজ। ঘুমের সময় আপনি চলে যাবেন ঠিক অন্য জগতে। রাত ১০টার সময় ঘুমানোর চেষ্টা করুন। বিকালেও ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। দ্রুত সময় চলে যাবে।
১৫. সাহিত্য থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া
ভালোবাসা অর্থই হলো ত্যাগ করা, ছাড় দেওয়া, তাকে ভালো থাকার সুযোগ করে দেওয়া। তাই সে যেখানে সুখী থাকতে চায় তাকে সেখানে যেতে দিন। তার কোনো ক্ষতি করার চিন্তা করা যাবে না। যেমনটা রবীন্দ্রনাথ বলেন—
“যদি সুখ নাহি পাও, তবে সুখেরও সন্ধানে যাও।
আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয়ে ও মাঝে, আর কিছু নাহি চাই গো…”
এছাড়া হেলাল হাফিজ তার কবিতায় বলেন—
“যদি যেতে চাও, যাও।
আমি পথ হবো চরণের তলে।
না ছুঁয়ে তোমাকে ছোবো।
ফেরাবো না, পুড়াবো প্রেমের অনলে।”
শেষ কথা
ব্রেকআপের বেদনা জীবনের একটি কঠিন বাস্তবতা হলেও এটি চিরস্থায়ী নয়। মানসিক সচেতনতার মাধ্যমে আমরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্রুত নিজের ভেতরের শক্তিকে ফিরে পেতে পারি। ব্রেকআপের বেদনা কাটিয়ে উঠতে নিজেকে ব্যস্ত রাখা, ইতিবাচক চিন্তা করা এবং মানসিক সহায়তা মাধ্যমে মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।