ভিটামিন ডি যুক্ত ফলের নাম – ফলে কি আসলেই ভিটামিন ডি রয়েছে?

ভিটামিন ডি মানুষের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং হাড় শক্ত করে। ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ করার জন্য অনেক ফল খাই। ফলে সাধারণত খুব বেশি ভিটামিন ডি থাকে না, তবে কমলার রস, শুকনো ডুমুর, কলাসহ আরো কিছু ফল থেকে হালকা ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ করা যায়। এছাড়াও পেঁপে,…

ভিটামিন ডি যুক্ত ফলের নাম - ফলে কি আসলেই ভিটামিন ডি রয়েছে?

ভিটামিন ডি মানুষের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং হাড় শক্ত করে। ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ করার জন্য অনেক ফল খাই। ফলে সাধারণত খুব বেশি ভিটামিন ডি থাকে না, তবে কমলার রস, শুকনো ডুমুর, কলাসহ আরো কিছু ফল থেকে হালকা ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ করা যায়। এছাড়াও পেঁপে, তরমুজ ও কিসমিসে সামান্য ভিটামিন ডি রয়েছে। গুগল বা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিটামিন ডি যুক্ত ফলের নাম খুঁজতে গিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত হই। বাস্তবে অল্প কয়েকটি ফলে ভিটামিন ডি রয়েছে এবং বেশিরভাগ ফলে এই ভিটামিনের কোনো অস্তিত্ব নেই।

ভিটামিন ডি যুক্ত ফল কি আসলেই আছে?

আপনি যদি গুগল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জিগ্যেস করেন যেন, ভিটামিন ডি যুক্ত ফলের নাম? তাহলে সরাসরি উত্তর হচ্ছে “না”। ফলে মূলত ভিটামিন ডি খুবই সীমিত আকারে থাকে। তবে ফর্টিফাইড খাবারের মতো কিছু ফলে ভিটামিন ডি যুক্ত করা হয়। যেমন : – ফর্টিফাইড যুক্ত কমলা, কলাসহ ইত্যাদি। ভিটামিন ডি এর মূল উৎস হচ্ছে সূর্যের আলো, কয়েকটি প্রজাতির মাছ, ডিমের কুসুম, দুধ ও fortified খাবার।

ভিটামিন ডি এর মূল উৎস

সূর্যের আলো

ভিটামিন ডি এর প্রাকৃতিক ও মূল উৎস হচ্ছে সূর্যের আলো। সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময় এর পরিমাণ বেশি থাকে। প্রতিদিন ৩০ মিনিট সূর্যের আলো বা রোদে থাকলে শরীর অটোমেটিক ভিটামিন ডি তৈরি করে।

সামুদ্রিক মাছ

ভিটামিন ডি যুক্ত অনেক মাছ রয়েছে। চর্বিযুক্ত ও সামুদ্রিক মাছ ভিটামিন ডি এর অন্যতম উৎস। তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্যামন, টুনা, ইলিশ, রুপচাঁদা মাছ। স্যামন মাছ ভিটামিন ডি এর অন্যতম উৎস হলেও বাংলাদেশ জন্য ইলিশ মাছ সব চেয়ে কার্যকরী উৎস৷ রুপচাঁদা ও সামুদ্রিক টুনা মাছেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।

ডিমের কুসুম

ভিটামিন ডি এর সহজলভ্য উৎস হচ্ছে ডিমের কুসুম। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ করতে পারে ১-২টি ডিম। এটি ভিটামিন ডি এর প্রাকৃতিক সহজলভ্য প্রাকৃতিক উৎসগুলোর মধ্যে একটি। ডিমের কুসুমে ভিটামিন ডি ছাড়াও ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, জিস্কসহ আরো বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন রয়েছে। যা শরীরের হাড় শক্ত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

ফর্টিফাইড (Fortified) খাবার

ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ করার জন্য ফর্টিফাইড খাবারের সাথে ভিটামিন ডি যুক্ত করা হয়। দুধ, দই, কমলার জুসে কৃত্রিমভাবে ভিটামিন ডি যুক্ত করা হয়। বিশেষ মাখন, বাদামের দুধেও কৃত্রিমভাবে ভিটামিন ডি যুক্ত করা যায়। সূর্যের আলো ভিটামিন ডি এর মূল উৎস হলেও ফর্টিফাইড খাবার ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ভিটামিন ডি এর অভাবের লক্ষণ

শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব হলে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তারমধ্যে শরীর দুর্বল, শরীরের বিভিন্ন হাড়ে ব্যথা, দ্রুত অসুস্থ হয়ে যাওয়া, শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, ঘন ঘন কাশি হওয়া এই লক্ষণগুলো বেশি দেখা যায়।

আরও পড়তে পারেন: অপরাজিতা গাছের উপকারিতা ও যত্ন

মানুষের শরীরে দৈনিক কত ভিটামিন ডি প্রয়োজন?

মানুষের শরীরে প্রতিদিন ভিটামিন ডি এর প্রয়োজন পড়ে। বয়স অনুযায়ী শরীরে ভিটামিন ডি চাহিদা ভিন্ন হতে পারে। শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরের গঠন অনুযায়ী ৪০০ IU থেকে ৯০০ IU পর্যন্ত লাগতে পারে। অতিরিক্ত বা কম ভিটামিন ডি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত হলে শরীরের ক্যালসিয়াম বেড়ে যেতে পারে এবং কম হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে।

পরামর্শ

ফলে ভিটামিন ডি রয়েছে, এই ভেবে অনেকেই আগ্রহী হলেও মূলত ভিটামিন ডি যুক্ত ফল নেই। ভিটামিন ডি এর মূল উৎস হচ্ছে সূর্যের আলো এবং সামুদ্রিক মাছ, ডিমের কুসুম এবং ফর্টিফাইড খাবার। সঠিকভাবে ভিটামিন ডি সংগ্রহ করে শরীরের শক্তি সংগ্রহ করুন।

Similar Posts

Leave a Reply