নতুন সংসারে মানিয়ে নেওয়ার উপায়: শুরুতেই যে ভুলগুলো এড়ানো জরুরি
নতুন সংসারে মানিয়ে নেওয়া অনেকের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এই লেখায় জানুন কীভাবে মানসিক প্রস্তুতি, বোঝাপড়া ও বাস্তব কৌশলের মাধ্যমে নতুন সংসারে সহজে ও সুখে মানিয়ে নেওয়া যায়।
নতুন সংসার নিয়ে আমরা অনেকে ভয়ের মধ্যে থাকি। কেমন হবে শ্বশুর বাড়ির লোকজন, কীভাবে তাদের সাথে মানিয়ে নেবে? এসব নিয়ে অনেকে চিন্তায় পড়ে যায়। এসব চিন্তায় অনেকে বিয়ের পরে শ্বশুর শাশুড়ি ছেড়ে আলাদা হয়ে যেতে চায়। শ্বশুর শাশুড়ি রেখে আলাদা থাকা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই পরিবারের সবাই কে নিয়ে মিলেমিশে থাকা হচ্ছে বুদ্ধিমানের কাজ। নতুন সংসারে মানিয়ে নেওয়া খুব কঠিন কাজ নয়। কিছু জিনিস সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে সংসারে শান্তি স্থাপন করা অনেক সহজ।
নতুন সংসারে মানিয়ে নেওয়ার উপায়
গুরুজনদের শ্রদ্ধা করা
পরিবারের বড়োদের সম্মান করতে হবে। বড়োদের সামনে উঁচু স্বরে কথা বলা যাবে না। শ্বশুর-শাশুড়ি কে নিজের মা-বাবার মতো সম্মান করুন। তারা অপছন্দ করে এ-ধরনের কাজ করা যাবে না। খাবার টেবিলে নমনীয় হয়ে বসুন। সবার সামনে বেশিক্ষণ মোবাইল টিপাটিপি করা যাবে না।
বাড়ির কাজে সাহায্য করুন
রান্নার করা বা ঘর গোছানোর কাজে পরিবারের অন্য সদস্যদের সাহায্য করুন। নিজ থেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। কোনো কাজ কারার আগে পরিবারের বড়োদের থেকে অনুমতি নিন। পরিবারের নিয়ম কানুন মেনে চলুন। তাহলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না।
আরও পড়তে পারেন: নতুন সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তালিকা
বিনয়ী হওয়া
ইগো যে কোনো সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। নতুন সংসারে ইগো দেখানো উচিত নয়। তাই ইগো দূরে সরিয়ে সব সময় বিনয়ী থাকুন। শ্বশুর-শাশুড়িসহ সবার সাথে বিনয়ের সাথে কথা বলতে হবে। সর্বোপরি, যে কোনো সম্পর্কে তিক্ততা আসার জন্য ইগো সব থেকে বেশি দায়ী।
বাবার পরিবারের সাথে তুলনা না করা
প্রত্যেক পরিবারের কিছু ধারা এবং নিয়ম কানুন রয়েছে। যা দুইটা পরিবারের সাথে কখনোই সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। বাবার বাড়ির সাথে শ্বশুর বাড়ি তুলনা করা যাবে না। এতে সংসারে অশান্তি বাড়বে। নতুন জায়গায় খাপ খাইয়ে নিতে একটু কষ্ট হবে, তবে ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে।
মানিয়ে নিতে চেষ্টা করুন
নতুন জায়গায় মানিয়ে নিতে সবার একটু কষ্ট হয়। যে কোনো স্থানে নিজকে মানিয়ে নিতে শিখলে, আপনি জীবনকে আরও ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন, আপনি আরও সুখী হতে পারবেন। নতুন অবস্থায় অনেকে মজা করে অনেক কিছু বলে, সেগুলো কে সিরিয়াসলি নেওয়া যাবে না। কোনো বিষয়ে অস্বস্তি বোধ করলে সেগুলো এড়িয়ে যাওয়া উত্তম।
নতুন পরিবার কে নিজের করে নেওয়া
প্রথমত মাথায় রাখতে হবে এটি আপনার নিজের পরিবার। তাহলে পরিবারের বাকি সদস্যদের উপর আন্তরিকতা বাড়বে। শ্বশুর বাড়ির লোক কে প্রতিপক্ষ মনে করা যাবে না। তাদের সাথে বিনয়ী হয়ে ব্যবহার করুন। এতে আপনার প্রতি তাদের ভালোবাসা বাড়বে।
বাচ্চাদের প্রাধান্য দিন
পরিবারে বাচ্চা থাকলে তাদের সাথে আড্ডা দিন। বাচ্চাদের কে তাদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার তৈরি করে দিন। তাদের সাথে গল্প করুন। এতে করে বড় সদস্যরাও আপনার প্রতি ভালো মনোভাব পোষণ করবে। পরিবারের বড় সদস্যদের চেয়ে ছোট সদস্যদের সাথে বন্ধুত্ব করা সহজ।
নিয়মিত যোগাযোগ রাখা
শ্বশুর বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। তাদের সাথে কথা বলা এবং তাদের খোঁজ-খবর নেওয়া। পরিবারের আনন্দের মুহূর্তগুলো তাদের সাথে শেয়ার করুন। এতে আপনার প্রতি তাদের ভালো মনোভাব পোষণ করবে।
অভিযোগ না করা
পরিবারের সদস্যদের ব্যাপারে অভিযোগ করবেন না। তাদের কোনো কথা বা কোনো আচরণ দৃষ্টিকটু মনে হলে তার বিরোধিতা না করে তা এড়িয়ে চলুন৷ পরিবারের সদস্যদের উপর বিরক্তি প্রকাশ করা যাবে না। এগুলো সুখী দাম্পত্য জীবনে সহজ রহস্য।
শেষ কথা
নতুন সংসারে মানিয়ে নেওয়া অনেক সহজ। তবে তার জন্য নিজেকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে। শ্বশুর বাড়ির লোকের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। গুরুজনদের শ্রদ্ধা করা, এসব কিছু বিষয় মাথায় রেখে চলতে পারলে নতুন সংসারে মানিয়ে নেওয়া খুব কঠিন কাজ হবে না।