গ্রামের ঘর সাজানো: কম খরচে নান্দনিক ডিজাইন আইডিয়া
আধুনিক ও ঐতিহ্যের মিশ্রণে অল্প খরচে গ্রামের ঘর সাজানো যায়। তার জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন।
গ্রামের বাড়ি মানেই প্রশান্তি এবং ভালোবাসার এক নিবিড় বন্ধন। গ্রামের ঘর সাজানো মানেই অতি অতিরঞ্জিত কোনো ডেকোরেশন না করে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ঘর সাজানো। তবে বর্তমানে গ্রামে এখন শহরের আবহ তৈরি হচ্ছে। তাই এখন গ্রামের ঘর বাড়ি সিম্পল ভাবে সাজানো ঠিক নয়। গ্রামে আধুনিক সাজসজ্জার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। গ্রামের চিরচেনা রূপ এবং আধুনিক ইন্টেরিয়র ডিজাইনের সমন্বয়ে গ্রামের ঘর সাজাতে পারেন।
গ্রামের ঘর সাজানোর কার্যকরী উপায়
থিম নির্ধারণ
গ্রামের ঘর সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য প্রথমেই একটি সঠিক পরিকল্পনা করা খুব জরুরি। ঘর সাজানোর আগে একটি নির্দিষ্ট বাজেট ঠিক করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো যায়। প্রথমে আপনার ঘরের মোট জায়গা এবং আকার ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। ঘরের দেয়াল, জানালা এবং দরজার অবস্থান অনুযায়ী ফার্নিচার বসানোর পরিকল্পনা করুন। গ্রামের ঘর সাজানোর জন্য স্থানীয় এবং সহজলভ্য উপকরণ ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। যেমন বাঁশ, কাঠ, মাটি, বা স্থানীয়ভাবে তৈরি ফার্নিচার ব্যবহার করলে খরচ কম হবে এবং ঘরেও ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য আসবে। এছাড়া টেকসই এবং সহজে পরিষ্কার করা যায় এমন উপকরণ নির্বাচন করা উচিত।
আরও পড়তে পারেন: টিনের ঘর সাজানোর সেরা আইডিয়া
ঐতিহ্যবাহী আসবাব
গ্রামের ঘর সাজানোর সময় অবশ্যই ঐতিহ্যের দিকে নজর রাখতে হবে। বাঁশ ও বেতের আসবাবপত্র প্রাচীন বাঙালির নিদর্শন। এটি ঘরে রাজকীয় লুক তৈরি করবে। অবশ্য এখন এসব আসবাবপত্র শহরেও অনেক দেখা যায়। কারুকাজ করা আলমারি, ড্রয়িং রুম, শোকেস এবং মাটির ফুলদানি দিয়ে ঘর সাজিয়ে রাখুন।

দেয়াল সাজানো
দেয়ালে মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিস অথবা হাতে বানানো বিভিন্ন হোম ডেকর আইটেম দিয়ে গ্রামের ঘর সাজাতে পারেন। তার সাথে একটি নকশি কাঁথা ফ্রেম করে ওয়ালের ফোকাস পয়েন্ট টি রাঙিয়ে রাখুন। দরজা এবং জানালার জন্য সুতির হালকা রঙের পর্দা ব্যবহার করতে পারেন। মাটির ফুলদানি, টেরাকোটা, লোক শিল্প দিয়ে ওয়াল রাঙিয়ে তুলুন।

ইনডোর প্লান্ট
ঘরের মধ্যে ইনডোর প্লান্ট সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ঘরে প্রকৃতির সবুজ পরিবেশ তৈরি করবে। মাটির টবে ইনডোর প্লান্ট যেমন- মানি প্লান্ট, কয়েন প্লান্ট, জেড প্লান্ট, স্পাইডার প্লান্টসহ আরো বিভিন্ন গাছ দিয়ে রাখতে পারেন। গ্রামের ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে বারান্দায় বিভিন্ন ঝুলন্ত গাছ লাগাতে পারেন। মাটির ফুলদানিতে বিভিন্ন তাজা ফুল বা আর্টিফিশিয়াল ফুল দিয়ে সাজাতে পারেন।

আলোকসজ্জা
সঠিক আলোকসজ্জা যে-কোনো ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে পারে দ্বিগুণ। গ্রামের ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে হারিকেন আকৃতির আধুনিক লাইট ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঐতিহ্যের আদলে আধুনিক ইন্টেরিয়র ডিজাইনে ঘর সাজবে। এছাড়াও বাঁশের তৈরি ল্যাম্পশেড এবং পাটের তৈরি শতরঞ্জি লাইট ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো ঘরের মধ্যে একটি নতুন আকর্ষণ তৈরি করবে। যা ঘরে রাজকীয় লুক দিবে।

অন্যান্য খুঁটিনাটি
ডাইনিং টেবিল সাজানোর জন্য মাটির তৈরি আসবাবপত্র ব্যবহার করতে পারেন। পুরোনো জিনিস মডিফাই করে অনায়াসে গ্রামের ঘর সাজানো যায়। ছোট ছোট টব দিয়ে জানালার আশপাশ এবং নকশি করা কুলা চালুন দিয়ে দেয়াল সাজাতে পারেন। মাটির কলস এবং মটকা দিয়ে ঘরের স্টোরেজের ব্যবস্থা করতে পারেন। এসব খুঁটিনাটি জিনিস ব্যবহার করে নিজের রুচিশীল চিন্তাভাবনা দিয়ে ঘর সাজাতে পারেন।
কম খরচে ঘরকে রাজকীয় রূপ দেওয়ার টিপস
ঘরে রাজকীয় লুক দিতে স্থানীয় মিস্ত্রি বা কারিগরদের সাহায্য নিতে পারেন। তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে আপনার ঘরকে রাঙিয়ে তুলতে অনেক বেশি ভূমিকা রাখবে। এছাড়া DIY (পুরোনো জিনিসের পুনর্ব্যবহার) দিয়ে ঘর সাজাতে পারেন। DIY শুধু গ্রামে নয় এটি শহরের বাড়ি সাজানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি ব্যবহার হয়ে আসছে।
শেষ কথা
ঘর সাজানো মানে অনেক টাকা খরচ করা নয় বরং নিজের রুচি ও চিন্তাশীল মনোভাব দিয়ে পুরাতন জিনিসের পুনর্ব্যবহার করে গ্রামের ঘর সাজানো যায়। সঠিক আসবাব, দেয়াল, জানালা এবং আলোকসজ্জা দিয়ে ঘরের লুক পরিবর্তন করে ঘরকে রাঙ্গিয়ে তুলতে পরেন।