টিনের রান্না ঘর সাজানোর সহজ উপায়: কম খরচে সেরা কিচেন ডিজাইন
সাজানো গোছানো রান্নাঘর সবার অনেক পছন্দের। গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস অনুসরণ করে টিনের রান্নাঘর সাজানো যায়।
শহরের তুলনায় গ্রামে টিনের রান্নাঘর বেশি চোখে পড়ে। টিনের রান্নাঘর মানে একটি চিরচেনা আমেজ। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে টিনের রান্নাঘর। টিনের রান্নাঘরের একটু সাজগোছ রান্নার মুড় পরিবর্তন করে দিতে পারে। সুন্দর পরিবেশ তৈরি করার জন্য টিনের রান্নাঘর সাজানো জরুরি। স্মার্ট স্টোরেজ, সঠিক আলোকসজ্জা এবং নান্দনিক ইন্টেরিয়র ডিজাইন দিয়ে রান্নাঘরকে প্রাণবন্ত করে নিতে পারেন।
টিনের রান্নাঘর সাজানোর ডিজাইন
থিম নির্ধারণ
যে-কোনো কাজের প্রথমে একটি পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত। এতে কাজের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং কাজের মধ্যে ব্যাঘাত ঘটে না। কাজের পরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাজেট নির্ধারণ করা। কি কি উপকরণ দিয়ে ঘর সাজাবেন তার জন্য কত টাকা খরচ হতে পারে এসবের একটি বাজেট পরিকল্পনা তৈরি করুন। তারপর রান্নাঘরকে নিজের রুচিশীল চিন্তা দিয়ে করে তুলুন প্রাণবন্ত।
স্মার্ট স্টোরেজ
টিনের রান্নাঘর সুন্দর করে গোছগাছ করে রাখলে অটোমেটিক অতিরিক্ত স্টোরেজ তৈরি হয়ে যায়। কাচের বয়াম বা আচার চকলেটের বয়াম ব্যবহার করে সব ধরনের মশলা রাখতে পারেন। কর্নারের সঠিক ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন র্যাক ইউজ করতে পারেন। যেখানে অতিপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখতে পারেন। দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে হুক লাগাতে পারেন যা খুন্তি, কড়াই, চামচসহ আরো বিভিন্ন জিনিস ঝুলিয়ে রাখতে পারবে। মটকা বা বড় হাঁড়িতে চাল নিরাপদ থাকবে। স্মার্ট স্টোরেজের সমাধান এখানে সম্ভব।

দেয়াল, মেঝে ও জানালা সাজানো
দেয়ালে রঙিন টিন লাগাতে পারেন এবং দেয়াল সাজানোর জন্য 3D ওয়ালপেপার, ওয়াটারপ্রুফ ওয়ালপেপার বা রঙিন স্টিকার লাগাতে পারেন। রান্নাঘরে হালকা রং ব্যবহার করা উচিত। জানালার জন্য সুতি পর্দা বা প্রিন্টের পর্দা আর ফ্লোরে প্লাস্টিকের কার্পেট ব্যবহার করতে পারেন। উপরে বাঁশের চটা ব্যবহার করলে গরমের দিনে গরমের তীব্রতা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
আরও পড়তে পারেন: রান্নাঘরের সরঞ্জামের তালিকা
সঠিক আলোকসজ্জা ও নান্দনিকতার ছোঁয়া
টিনের রান্নাঘরে মেইন লাইটের পাশাপাশি কাস্টমাইজড লাইট ব্যবহার করতে পারেন। বাঁশ বা বেতের তৈরি ল্যাম্পশেড লাগানো যায়। এগুলো রান্নাঘরে একটি নান্দনিক আবহ সৃষ্টি করবে। গাঢ় রঙের লাইট ব্যবহার না করে এলইডি লাইট ব্যবহার করুন। এতে বিদুৎ সাশ্রয়ী হবে এবং গরমের তাপ থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যাবে।

অতিরিক্ত জিনিস সরিয়ে ফেলুন
অতিরিক্ত জিনিস রান্নাঘরের সৌন্দর্য নষ্ট করে। প্রয়োজনীয় উপকরণ ছাড়া অতিরিক্ত জিনিস সরিয়ে রাখুন। এতে রান্নাঘর বড় দেখাবে এবং রান্নাঘরের সৌন্দর্য ফুটিয়ে উঠবে। যথাস্থানে জিনিসপত্র রাখার চেষ্টা করুন। রান্নাঘরকে যথাসম্ভব পরিষ্কার এবং পরিপাটি রাখুন। এতে রান্নাঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।
ইনডোর প্লান্ট
রান্নাঘরে বিভিন্ন ধরনের গাছ রাখতে পারেন। বাতাস বিশুদ্ধ করার পাশাপাশি এগুলো আপনার প্রয়োজনীয়তা মেটাতে সাহায্য করবে। জানালার পাশে ধনেপাতা, পুদিনা, অ্যালোভেরাসহ আরো বিভিন্ন গাছ রাখতে পারেন। এছাড়াও ঘরের পরিবেশ শান্ত রাখতে ভূমিকা রাখবে এসব গাছ। যা গৃহিণীর মনকে প্রশান্তি দিবে।
টিনের রান্নাঘর সাজানোর আগে বিবেচ্য বিষয়সমূহ
রান্নাঘর তৈরি করার সময় এমন ভাবে ডিজাইন করা উচিত যাতে রান্নাঘরে পর্যাপ্ত আলো বাতাস এবং বায়ু চলাচল করতে পারে। জানালা এবং ভেন্টিলেশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা রাখা। পানির উৎসের যথাসম্ভব কাছাকাছি রান্নাঘর রাখার পরিকল্পনা করুন। রান্নাঘরে মরিচা পড়ে না এমন টিন ব্যবহার করতে হবে। কাঠ বা স্টিলের ক্ষেত্রে যথাসম্ভব শক্ত জিনিস লাগাতে হবে এবং ক্ষতিকর জিনিস থেকে যেমন কালি, তেল থেকে রান্নাঘরে টিন এবং স্টিলের জিনিসপত্র রক্ষা করতে হবে। সবশেষে রান্নাঘরের স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করতে হবে। তাহলে একটি চমৎকার এবং প্রাণবন্ত রান্নাঘরে আপনার পছন্দের সময় কাটবে।
শেষ কথা
নিজের মনের মতো করে সাজানো রান্নাঘরে রান্নার আনন্দ অনেক বেশি। টিনের রান্নাঘর সাজানো অনেক সহজ একটি কাজ। নির্দিষ্ট থিম ব্যবহার করে নিজের রুচিশীল চিন্তাভাবনা দিয়ে রান্নাঘরকে আকর্ষণীয় করে সাজিয়ে তুলতে পারবেন। পরিষ্কার এবং গুছানো রান্নাঘর সব গৃহিণীর মনে আনন্দ উল্লাস তৈরি করে।